হোম পেজে ফিরে যান
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হারানো বা নষ্ট হওয়া মূল সার্টিফিকেট এর দ্বি-নকল (Duplicate) তোলার নিয়ম ও আবেদন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট ডুপ্লিকেট: সাময়িক ও অরিজিনাল সম্পূর্ণ গাইড

NU Certificate Duplicate ২০২৬ | জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বি-নকল সনদ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (National University) থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করার পর শিক্ষার্থীদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সনদপত্র দেওয়া হয় – সাময়িক সনদ (Provisional Certificate) ও মূল সনদ (Original Certificate)। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এই সনদগুলো হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে কী করবেন? চিন্তার কিছু নেই। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ডুপ্লিকেট সার্টিফিকেট (Duplicate Certificate) প্রদান করে। তবে সাময়িক ও অরিজিনাল – এই দুই ধরনের সনদের ডুপ্লিকেট প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে সামান্য পার্থক্য রয়েছে।

এই সম্পূর্ণ গাইডে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব — কীভাবে ডুপ্লিকেট সাময়িক ও ডুপ্লিকেট অরিজিনাল সার্টিফিকেট নিখুঁত নিয়মে সংগ্রহ করতে হয় এবং এদের মধ্যে ফি ও কাগজপত্রের পার্থক্য কোথায়।

১. সাময়িক ও অরিজিনাল সার্টিফিকেট – ধারণা ও পার্থক্য

সাময়িক সনদ (Provisional Certificate): এটি একটি অস্থায়ী সনদপত্র যা মূল সনদ প্রকাশের আগে শিক্ষার্থীদের জরুরি প্রয়োজনে দেওয়া হয়। এটি অস্থায়ী এবং মূল সনদপত্র তোলার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন ক্যাম্পাসে এটি ফেরত বা জমা দিতে হয়।

মূল সনদ (Original Certificate): এটি স্থায়ী ও চূড়ান্ত সনদপত্র যা আপনার ডিগ্রির প্রধান ও চিরস্থায়ী প্রমাণ। এতে বিশেষ নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য (যেমন: ওয়াটারমার্ক, হোলোগ্রাম) যুক্ত থাকে এবং এটি সর্বত্র আজীবন গ্রহণযোগ্য দলিল।

বিষয়সাময়িক সার্টিফিকেটঅরিজিনাল সার্টিফিকেট
প্রকৃতিঅস্থায়ী (Temporary)স্থায়ী ও চূড়ান্ত (Original)
নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যসাধারণ সিকিউরিটি পেপারওয়াটারমার্ক, হোলোগ্রাম ও থ্রিডি সিল যুক্ত
মূল সনদ তোলার সময়বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরত জমা দিতে হয়আজীবন নিজের কাছে রাখা যায়

ডুপ্লিকেট নেওয়ার সাধারণ ও বাধ্যতামূলক নিয়মাবলি:

  • ভিত্তি নথিপত্র: রেজিস্ট্রেশন ও অ্যাডমিট কার্ড ছাড়া ডুপ্লিকেট সনদের আবেদন করা যায় না। এগুলো হারানো গেলে আগে তাদের ডুপ্লিকেট তুলতে হবে।
  • আইনি প্রমাণ: সনদ হারানোর প্রমাণ হিসেবে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং জাতীয় দৈনিকে হারানো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তার মূল কপি (Original Paper Copy) জমা দিতে হবে। কোনো ফটোকপি গ্রহণযোগ্য নয়।
  • অধ্যক্ষের সুপারিশ: প্রতিটি আবেদন ফরম সংশ্লিষ্ট কলেজ অধ্যক্ষের সিল ও স্বাক্ষর দ্বারা সুপারিশকৃত হতে হবে।

২. ডুপ্লিকেট সাময়িক সার্টিফিকেট (Duplicate Provisional)

মূল সাময়িক সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলে, ছিঁড়ে বা পুড়ে নষ্ট হয়ে গেলে এটি তুলতে হয়। নিচে এর সংক্ষিপ্ত প্রয়োজনীয় কাগজ ও ফি কাঠামো দেওয়া হলো:

ডুপ্লিকেট সাময়িক সার্টিফিকেটের চেকলিস্ট ও ফি
প্রয়োজনীয় কাগজঅধ্যক্ষের সুপারিশসহ আবেদনপত্র, মূল রেজিস্ট্রেশন ও অ্যাডমিট কার্ডের কপি, থানার জিডি (মূল কপি), এবং জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মূল কাটিং।
সরকারি ফি৭০০/- টাকা (ব্যাংক ড্রাফট) | অনলাইন চার্জ অতিরিক্ত ২০০/- টাকা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
সময়সীমাসাধারণত ২০-৩০ কর্মদিবস (জরুরি ভিত্তিতে ১৫-২০ দিন)।

৩. ডুপ্লিকেট অরিজিনাল সার্টিফিকেট (Duplicate Original)

গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত: অরিজিনাল সার্টিফিকেটের ডুপ্লিকেট পেতে হলে আপনাকে অবশ্যই সাময়িক সার্টিফিকেট বোর্ডে জমা দিতে হবে। যদি সাময়িকও একসাথে হারিয়ে যায়, তবে প্রথমে ডুপ্লিকেট সাময়িক তুলতে হবে, তারপর অরিজিনালের ডুপ্লিকেট আবেদন করা যাবে।

ডুপ্লিকেট অরিজিনাল সার্টিফিকেটের চেকলিস্ট ও ফি
প্রয়োজনীয় কাগজঅধ্যক্ষের সুপারিশসহ আবেদন ফরম, রেজিস্ট্রেশন ও অ্যাডমিট কার্ড, সকল বর্ষের মার্কশীট/গ্রেডশীট, সাময়িক সার্টিফিকেটের মূল কপি, থানার জিডির মূল কপি এবং জাতীয় দৈনিক পত্রিকার মূল কাটিং।
সরকারি ফি৮১০/- টাকা (ব্যাংক ড্রাফট) | অনলাইন চার্জ অতিরিক্ত ২০০/- টাকা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
সময়সীমাসাধারণত ২০-৩০ কর্মদিবস (হাতে লেখা পুরোনো সনদের ক্ষেত্রে ২-৩ মাস লাগতে পারে)।

৪. ডুপ্লিকেট সার্টিফিকেটের জন্য ধাপে ধাপে আবেদন প্রক্রিয়া

ধাপ ১ (জিডি করা): নিকটস্থ থানায় গিয়ে স্পষ্ট বিবরণ (নাম, রেজি নম্বর, সেশন, কোন সনদটি হারিয়েছে) উল্লেখ করে একটি জিডি করুন এবং মূল কপি সংগ্রহ করুন।

ধাপ ২ (পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি): যেকোনো জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় আপনার একাডেমিক তথ্যসহ হারানো বিজ্ঞপ্তি দিন এবং পত্রিকার মূল কপিটি নিজের কাছে রাখুন।

ধাপ ৩ (কলেজ ফরওয়ার্ডিং): সংশ্লিষ্ট কলেজ থেকে নির্ধারিত ডুপ্লিকেট ফরম সংগ্রহ করে পূরণ করুন এবং অধ্যক্ষের সিল-স্বাক্ষরসহ সুপারিশ নিন।

ধাপ ৪ (ফি ও জমা): সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে নির্ধারিত ফি (সাময়িক ৭০০/- বা অরিজিনাল ৮১০/-) পে-স্লিপ বা ব্যাংক ড্রাফট করুন। এরপর গাজীপুর মূল ক্যাম্পাসের One Stop Service Center অথবা কলেজের মাধ্যমে ফাইলটি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর জমা দিন।

ডুপ্লিকেট সার্টিফিকেট নেওয়ার সময় যেসব ভুল এড়াবেন

ভুল কাজসম্ভাব্য সমস্যা
জিডি ও পত্রিকার বিজ্ঞপ্তির ফটোকপি জমা দেওয়াআবেদন সরাসরি বাতিল হবে।
রেজিস্ট্রেশন ও অ্যাডমিট কার্ড ছাড়া আবেদন করাআবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।
সাময়িক ফেরত না দিয়ে সরাসরি অরিজিনালের আবেদনআবেদন রিজেক্ট হবে (আগে সাময়িক সাবমিট করতে হবে)।
অধ্যক্ষের অফিশিয়াল সিল ছাড়া ফরম জমা দেওয়াবোর্ডের প্রসেসিং শুরুই হবে না।

ডকুমেন্ট চেইনের পুরো চিত্র (এক নজরে)

যা হারিয়েছেধাপ ১ (প্রথম পদক্ষেপ)ধাপ ২ (দ্বিতীয় পদক্ষেপ)
শুধু সাময়িকডুপ্লিকেট সাময়িক তুলবেনভবিষ্যতে অরিজিনাল তুলতে এটি লাগবে
শুধু অরিজিনালসুরক্ষিত সাময়িকটি বোর্ডে জমা দেবেনসরাসরি ডুপ্লিকেট অরিজিনাল পাবেন
সাময়িক + অরিজিনাল উভয়ইপ্রথমে ডুপ্লিকেট সাময়িক তুলবেনতারপর ডুপ্লিকেট অরিজিনাল আবেদন করবেন
সবকিছুই হারিয়েছেক্রম অনুযায়ী তুলবেন: ডুপ্লিকেট রেজিস্ট্রেশন কার্ড ➔ অ্যাডমিট কার্ড ➔ সাময়িক ➔ অরিজিনাল।
উত্তর: না, একসাথে আবেদন করা যাবে না। প্রথমে আপনাকে ডুপ্লিকেট সাময়িক সার্টিফিকেট তুলতে হবে। সেটি হাতে পাওয়ার পর, ওই ডুপ্লিকেট সাময়িকটি জমা দিয়ে ডুপ্লিকেট অরিজিনাল সার্টিফিকেটের আবেদন করতে হবে। দুটি ক্ষেত্রে আলাদা ফি এবং আলাদা সময় লাগবে।
উত্তর: না। ডুপ্লিকেট সার্টিফিকেট বা দ্বি-নকল প্রসেসটি হলো আপনার আদি মূল ডকুমেন্টের হুবহু একটি অবিকল প্রতিলিপি তৈরি করা। এতে কোনো ডেটা এডিট করা হয় না। যদি আপনার বানানে ভুল থাকে, তবে আগে বা পরে আলাদাভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত "সার্টিফিকেট সংশোধন" ফি ও ফর্মের মাধ্যমে সেটি কারেকশন করতে হবে।
উত্তর: অরিজিনাল বা মূল সার্টিফিকেটে উচ্চমাত্রার আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যেমন: মেটালিক থ্রিডি হোলোগ্রাম সিল, গোপন জলছাপ বা ওয়াটারমার্ক এবং বিশেষ সিকিউরিটি ল্যামিনেটেড কাগজ ব্যবহার করা হয়, যা তৈরিতে প্রাতিষ্ঠানিক খরচ বেশি। এজন্য এর ডুপ্লিকেট ফি সামান্য বেশি হয়ে থাকে।

পেশাদার শেষ পরামর্শ:

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট ডুপ্লিকেট (NU Certificate Duplicate) প্রসেসের মূল মন্ত্রই হলো ধৈর্য এবং সঠিক সিকোয়েন্স। কোনো ডকুমেন্ট হারানোর পর আতঙ্কিত না হয়ে শান্তভাবে প্রথমে জিডি ও পত্রিকার কাজ সম্পন্ন করুন, তারপর ক্রমানুসারে (রেজিস্ট্রেশন ➔ অ্যাডমিট ➔ সাময়িক ➔ অরিজিনাল) ধাপে ধাপে এগোলে কোনো রকম ঝামেলা বা দালালের খপ্পর ছাড়াই আপনার মূল্যবান শিক্ষাগত নথির ডুপ্লিকেট কপি নিজের হাতে নিয়ে আসতে পারবেন।

উপসংহার

আশা করি এই পুঙ্খানুপুঙ্খ গাইডের মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বি-নকল সনদপত্র তোলার যাবতীয় নিয়ম একদম পরিষ্কার বুঝতে পেরেছেন। আপনার প্রয়োজনীয় নথিপত্রগুলো সুন্দর করে গুছিয়ে নিয়ে আজই প্রক্রিয়াটি শুরু করে দিন।

আপডেট তথ্য বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন।

গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ

বি. দ্র.: “https://nuhelp.info” National University-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট নয় এবং এটি উক্ত প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী কর্তৃক পরিচালিত নয়। ওয়েবসাইটটি একটি আন-অফিসিয়াল সেবামূলক প্ল্যাটফর্ম।